প্রচুর উত্তেজনা আর সাসপেন্সে ফুল পুরো মুভি। এক মিনিটের জন্যও চোখ সরাতে পারবেন না। তিন বন্ধু টাকা চুরি করতে যায় শহর থেকে
দূরে একটি নির্জন জায়গায়। সেই বাড়িতে থাকে একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক যে
ইরাকের এক যুদ্ধে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। চোখে না দেখলেও দারুন শ্রবণশক্তি
লোকটির। সেই সাথে লোকটি খুবই হিংস্র। সেই বাসায় গিয়ে তারা তিনজনে আটকে যায়।
অন্ধ লোকটি বুঝে ফেলে যে তার ঘরে কেও আছে। শুরু হয় উত্তেজনা। উত্তেজনা এমন
পর্যায় চলে যাবে যে সত্যি দম বন্ধ হিয়ে আসবে। আর সে জন্যই আমি বলব মুভির নামকরণ সার্থক। তারা কি টাকা নিতে পারবে? সবাই কি
বেচে ফিরতে পারবে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে দেখে নিন মুভিটি। এত
উত্তেজনা আগে কোনো মুভিতে কখনো ফিল করিনি। পুরো শরীর গরম হয়ে আসছিল। কান
দিয়ে গরম বায়ু নির্গত হচ্ছিল। আমার মতে মাস্ট ওয়াচেবল একটা মুভি। দেখে নিন, টাইম ওয়েস্ট হবার কোনো চান্স নেই।
ইতিহাসের
পাতায় আজকের “শান্তিপ্রিয় জাপানী”দের শান্তির চিহ্ন মাত্রও পাওয়া যাবে না।
১৫৯৭ সাল। ৫ বছরের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো জাপান কোরিয়া আক্রমন করে।
জাপানী বাহিনী নির্দয়ভাবে আগ্রসর হতে থাকে। আত্মসমর্পণের পরেও হত্যা,
খাবার-পানীয়ের উৎস ধ্বংস করা এমনকি শিশুদের হত্যা করা; কোনোটিই বাদ দিচ্ছিল
না জাপানীরা। কোরিয়ান নেভির ফ্রন্টলাইন সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেয় জাপানী
নৌবহর। নাবিকদের হত্যা করে তাদের মুণ্ডু উপহার
হিসেবে পাঠাতে শুরু করে তারা। রাজা বাধ্য হয়েই ডাবল এজেন্টের অভিযোগে আটক
একজন অ্যাডমিরালকে পুনর্বহাল করেন। অবশিষ্ট ১২টি জাহাজ Yi sun shin এর হাতে
তুলে দেন। কিন্তু জাহাজ তোহ আর কোন গায়েবী শক্তিতে চালানো যায় না। অস্রের
থেকেও বড় শক্তি ক্রুদের পরিশ্রম আর ভালবাসা। কিন্তু মৃত্যুর ভয়ে সেটাই
কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। সহযোদ্ধাদের কাঁটা মুণ্ড সৈন্যদের শৃঙ্খলা এবং
মনোবলও কেঁড়ে নিয়েছে। জুনিয়র ক্যাপ্টেনরাও জাহাজের পাল তুলতে অপরাগ। ভয়
সবাইকে গ্রাস করে নিচ্ছে। এর মধ্যেই রাজধানী থেকে নির্দেশ এলো নৌযুদ্ধের
চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে সৈন্য নিয়ে যেন Yi sun shin রাজধানীর
প্রতিরক্ষায় অংশ নেয়। ৩০০ জাহাজের সামনে ১২টা জাহাজ কি আর করতে পারবে?
অ্যাডমিরাল বেঁকে বসলেন। সমুদ্রের সাথে নাকি মানব মনের গভীর সংযোগ।
স্রোতের গর্জন মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। স্রোতের গর্জন তার কানে
যেন নতুন কোন বার্তা দিয়ে গেল। ১২ টা জাহাজ নিয়েই তিনি ভেসে পরার সিদ্ধান্ত
নিলেন!!
কিছু বীরত্বের গল্প আসলে শব্দে প্রকাশ করা যায় না। The
Admiral-Roaring Currents সিনেমাটি সম্পূর্ণ বাস্তব এক সাহসিকতার চিত্রায়ন।
নির্লিপ্ততার চাদরে ঢাকা নেকড়ের হিংস্রতা, দৃঢ় মনোবল এবং সবমিলে ভেঙ্গে
পরা chain of command কে আবার জাগিয়ে তোলা এসব কিছুই শিক্ষণীয় বার্তা দিয়ে
যাবে। সিনেমাটগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ!!! সম্ভবত ২ ঘণ্টা ৮
মিনিটের রেশ আজীবন থেকে যেতে বাধ্য। তবে সিনেমার প্রথমদিকে কিছুটা ধীর গতির
মনে হতে পারে।
“The Admiral: Roaring Currents” (2014) Director: Kim Han-min Leading Cast: Min-sik Choi, Seung-ryong Ryu, Jin-woong Jo Genre: Adventure, Biography, War Country: South Korea Language: Korean IMDB Rating: 7.1 personal rating: 8.4